শহুরে অপরাধ: ধর্ষণ ও নিপীড়ন

বাংলাদেশের রাজধানী শহর ঢাকা পৃথিবীর সবচেয়ে জনবহুল শহরগুলোর একটি। দ্রুত শহরায়ন এবং শিল্পায়নের উন্নয়নে একবিংশ শতকে এসে ঢাকা একটি মেগাসিটিতে রূপ নিয়েছে। এটি পরিণত হয়েছে সকল প্রকার রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক এবং সাংস্কৃতিক কার্যক্রমের কেন্দ্র। নতুন সম্ভাবনা আর সুযোগের স্বপ্নে বিভোর হয়ে প্রতিদিন ঢাকায় পাড়ি জমাচ্ছে অসংখ্য মানুষ।
তবে, প্রতিনিয়ত জনসংখ্যা বাড়তে থাকায় এ শহরে সৃষ্টি হচ্ছে নিত্যনতুন অনেক সমস্যা। নানাবিধ আর্থ-সামাজিক সমস্যার সাথে সাথে কমছে শহরের মানুষের জীবনযাত্রার মানও। প্রত্যেক সমাজেই কিছু নীতি-নিয়ম, বিশ্বাস, প্রথা আর ঐতিহ্য আছে যেগুলো সমাজের সার্বিক কল্যাণের জন্য সহায়ক এবং সমাজের সদস্যরাও সেগুলো মেনে নেয়।
শহরে নানাবিধ অপরাধ হলো এমন একটি সমস্যা যা অতিরিক্ত জনসংখ্যার ফলাফল। নগরায়ন আর শহুরে অপরাধের মধ্যে তাই রয়েছে সম্পর্ক। প্রতিনিয়ত কর্মসংস্থানের আশায় শহরে চলে আসছে অসংখ্য মানুষ। ফলে, একস্থানে অতিরিক্তি ঘন বসতির কারণে বাড়ছে অপরাধপ্রবণতা। পরিস্থিতির আরো অবনতি ঘটছে ধনী-দরিদ্রের সম্পদের বৈষম্য বাড়ার সাথে সাথে।
শহরে অনেকরকমের অপরাধ ঘটে চলেছে প্রতিনিয়ত। যেমন- মাদক ব্যবসা, চাঁদাবাজি, অর্থ পাচার, মানব পাচার, প্রতারণা, খুন, কালো বাজারি, দুর্নীতি, ডাকাতি, রাজনৈতিক মারামারি, সন্ত্রাস, ধর্ষণ, যৌন নিপীড়ন, অপহরণ ইত্যাদি। তবে, এসব অপরাধের মধ্যে সবচেয়ে জঘন্যতম একটি অপরাধ হলো ধর্ষণ এবং যৌন নিপীড়ন। এর ফলে ভুক্তভোগীকে অমানুষিক শারীরিক এবং মানসিক আঘাতের মধ্য দিয়ে যেতে হয়।
ঢাকায় মোট জনসংখ্যার ৬৪.৬ লক্ষ পুরুষ এবং ৫৪.২ লক্ষ নারী। অনেক দেশেই নারী-পুরুষের অনুপাত ধর্ষণের একটি বড় নিয়ামক। কিন্তু, ঢাকায় যদিও নারী-পুরুষের সংখ্যা খুব বেশি পার্থক্য নেই, তথাপি এখানে ধর্ষণ কমছে না। প্রতি মাসেই আমরা অনেক ধর্ষণের কথা পত্রপত্রিকায় পড়ে থাকে, যাদের একটা অংশের আবার কোনো মামলাও হয় না। পরিস্থিতির এতটাই অবনতি হয়েছে যে ৭/৮ বছরের বালিকা শিশুও ধর্ষণের স্বীকার হচ্ছে। এই অপরাধ বিভিন্ন বয়সের নারী, পুরুষ, শিশুর বিরুদ্ধে ঘটে থাকে। উপরন্তু, নিজের ঘর, রাস্তাঘাট, কর্মস্থল, গণপরিবহন, সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যম, প্রতিটা স্থানেই এই অপরাধ সংঘটিত হয়।
সাধারণত তরুণ বয়সের নারীরা বিশেষ করে কিশোরী মেয়েরা সবচেয়ে বেশী ধর্ষণের শিকার হয়। কিন্তু, সম্প্রতি ১০ বছরের কম বয়সী শিশুরাও ধর্ষণের শিকার হচ্ছে যা এই অপরাধের ভয়াবহ মাত্রাকে ইঙ্গিত করে। তাছাড়া, শহরের যেকোনো স্থানেই একজন নারী যৌন নিপীড়নের শিকার হতে পারেন। কিশোর ছেলেরা রাস্তায় মেয়েদের উত্যক্ত করা, ভিড় বাসে নারী ও শিশুদের গায়ে অসঙ্গতভাবে হাত দেয়া, তরুণ শিক্ষার্থীদের বিদ্যালয় ও মাদ্রাসায় যৌন নিপীড়নের শিকার হওয়া, কর্মস্থলে হয়রানি, গৃহকর্তার দ্বারা পরিচারিকার হয়রানি, গৃহশিক্ষকের যৌন নিপীড়ন এবং অনেক ক্ষেত্রে এমনকি আত্মীয়দের দ্বারা নিপীড়নের শিকার হওয়া, এসব অপরাধই এ শহরে ঘটে প্রতিনিয়ত।
আইন ও সালিশ কেন্দ্রের তথ্য অনুযায়ী, ২০১৯ সালের জানুয়ারি থেকে মে মাস পর্যন্ত সময়ে ৪৭৯টি ধর্ষণ মামলা এবং ৭১টি ধর্ষণচেষ্টার মামলা হয়েছে। এর মধ্যে ২৮টি মামলায় ধর্ষণের পর হত্যা এবং ৭টি মামলায় ভুক্তভোগীর আত্মহত্যার ঘটনা ঘটেছে।
নীচের সারণীটিতে বিভিন্ন বয়সের ধর্ষণের ভুক্তভোগীদের সংখ্যা ও আনুষঙ্গিক তথ্য-উপাত্ত রয়েছে।

  • ২০১৫-১৮ সালে অধিকারের করা আরেকটি জরিপে উঠে এসেছে ধর্ষণের ধরন, ভুক্তভোগীদের বয়স ও আনুষঙ্গিক তথ্য

ঢাকায় যৌন নিপীড়নের বড় অংশটাই হয়ে থাকে বুলি আর ইভটিজিংয়ের মাধ্যমে। অপরাধীরা রাস্তায় নারীদেরকে নানারূপ অশোভন উপায়ে হয়রানি করে থাকে। আবার, কোনো কোনো অপরাধী কোনোভাবে ভুক্তভোগী ফোন নাম্বার যোগার করে ফেলে এবং প্রতিনিয়ত ফোন দিয়ে হয়রানি করে। এসব হয়রানি শহরের প্রতিটি স্থানে ঘটছে কেননা ইভটিজিংয়ের বিরুদ্ধে কার্যত কোনো আইন নেই বললেই চলে। এছাড়াও, ঢাকায় প্রায়শই অপরাধীরা অনেক নারীকে চুপিসারে অনুসরণ করে। ভুক্তভোগীর কোনো পুরুষ আত্মীয়ের হস্তক্ষেপ ছাড়া এই হয়রানি বন্ধ হয় না। এরূপ অনুসরণকারীদের বিরুদ্ধে করা মামলার সংখ্যাও প্রকৃত ঘটনার তুলনায় বেশ কম।

ম্যারিটাল রেপ বা বৈবাহিক ধর্ষণ নিয়ে তো এখানে কথাই হয় না। কেননা, ঢাকার সমাজ স্ত্রী-বিদ্বেষী এবং পুরুষতান্ত্রিক। অথচ পারিবারিক নির্যাতন এবং বৈবাহিক ধর্ষণ ঢাকার নিত্যকার ঘটনা।

ঢাকায় ধর্ষণ ও শারীরিক নির্যাতনের সংখ্যা বৃদ্ধি পাবার পেছনে অনেক কারণই রয়েছে। এর মধ্যে কিছু কারণ নীচে আলোচনা করা হলো।

  • মানসম্মত শিক্ষার অভাব
    যৌন নিপীড়নের অন্যতম বড় একটি কারণ হলো মানসম্মত শিক্ষার অভাব, যা কিশোর ছেলেমেয়েদেরকে নৈতিক শিক্ষা দিতে পারে। তাছাড়া, যথাযথ পরিচর্যার অভাবে শিশু-কিশোরদের মাঝে সামাজিক আদর্শ ও মূল্যবোধ প্রবেশ করছে না। উপরন্তু, সঠিক যৌন শিক্ষার ব্যবস্থা না থাকায় এ বিষয়ে তাদের জ্ঞান ব্যাহত হয়। আবার, অনেকে উচ্চ পারিপার্শ্বিক অবস্থান থেকে উঠে এসেও যৌন নিপীড়ক হয়ে যাচ্ছেন। এটি ইঙ্গিত করে নৈতিক শিক্ষার অভাবের দিকে, যা এ ধরনের অপরাধ বন্ধ করতে অত্যন্ত জরুরি।
  • বিচারহীনতার সংস্কৃতি
    আমাদের দেশের বিচারব্যবস্থা অকার্যকর এবং ধীর গতিসম্পন্ন। ধর্ষণের ও নির্যাতনের বিরুদ্ধে কঠোর আইন না থাকা, আদালতগুলোর নিয়মতান্ত্রিক জটিলতা যা একই মামলা বছরের পর বছর চালিয়ে নেয়, যাবজ্জীবন সাজা কমিয়ে কয়েক বছরে নামিয়ে আনা, এসবকিছুই অপরাধীর বিচারের ভয়কে কমিয়ে দেয়। যেহেতু অপরাধীরা মনে করে যে তারা সহজেই বিচার ব্যবস্থার ফাঁক গলে বেরিয়ে যেতে পারবে, তাই তারা অপরাধ করতে ভয় পায় না। অন্যদিকে, ইভটিজিং আর অনুমতি ব্যতীত অনুসরণের মতো অপরাধের বিরুদ্ধে কোনো নির্ধারিত আইন না থাকায় যে কেউ এহেন অপরাধে লিপ্ত হচ্ছে ফলাফলের চিন্তা না করেই।
  • নারী-পুরুষের অসমতা
    আমাদের দেশের পুরুষতান্ত্রিক সমাজে নারীদের খাটো করে দেখার একপ্রকার প্রবণতা আছে। ফলে, একজন নারী নিজে নির্যাতিত হয়েও তাকেই দোষী সাব্যস্ত হতে হয়। আমাদের পরিবারগুলো ছেলে শিশুদের কীভাবে আচরণ করতে হবে তা না শিখিয়ে মেয়ে শিশুদের কীভাবে পোশাক পরতে হবে তা শেখায়, যেন তারা হয়রানি থেকে বেঁচে থাকতে পারে।
  • নারীর ক্ষমতায়নের অভাব
    যদিও আমাদের শহরগুলোতে নারীরা এখন পূর্বের যেকোনো সময়ের চেয়ে অধিক ক্ষমতায়িত, তথাপি, বাল্যবিবাহের উপস্থিতি ইঙ্গিত করে মানুষের পিছিয়ে থাকাকে। তাই নারীর ক্ষমতায়নের জন্য প্রয়োজন মেয়েদেরকে আত্মরক্ষার কৌশল শেখানো এবং উচ্চশিক্ষায় শিক্ষিত করা।
  • নিরাপত্তার অভাব
    আমাদের দেশে, পর্যাপ্ত নিরাপত্তার অভাবে নারীরা অবাধে চলাফেরাও করতে পারে না। নিরাপত্তার অভাব এতটাই প্রকট যে নারীদেরকে সন্ধ্যার পর রাস্তায় চলাফেরা করা কিংবা একাকী কোথাও যেতে হলে সার্বক্ষণিক ভয়ে থাকতে হয়। এমনকি গণপরিবহনগুলো কোনো একাকী নারীর জন্য নিরাপদ নয়।
  • সিনেমায় ও মিডিয়ায় নারীকে আপত্তিকর অবস্থায় দেখানো
    আমাদের দেশের বেশীরভাগ মানুষই নারীকে টেলিভিশন এবং মিডিয়ায় নেতিবাচকভাবে দেখে অভ্যস্ত। তাদেরকে সৌন্দর্যের সামগ্রী হিসেবে উপস্থাপন করা হয়। বলিউড আর ঢালিউডের সিনেমা ও গানগুলোতে সম্মতির ব্যাপারটাকে সম্পূর্ণ উপেক্ষা করা হয়। আর নিরক্ষর দর্শকরা এসব দেখে সম্মতির ব্যাপারটা অনুধাবন করতে ব্যর্থ হয়।

আমাদের দেশে যথেষ্ট পরিমাণ আইন প্রচলিত নেই যেগুলো নারী ও শিশুদের হয়রানি করা অপরাধীদের সাজা দিতে পারবে। তাছাড়া, যেসব আইন বর্তমানে প্রচলিত রয়েছে, সেগুলোতে যৌন হয়রানির সংজ্ঞা স্পষ্ট নয় এবং বড় ধরনের পরিবর্তন প্রয়োজন। আবার, ধর্ষকের বিচার এবং সাজাও বাংলাদেশে খুব বেশি হয় না, কেননা ভুক্তভোগীরা সামাজিকভাবে হেয় হবার ভয়ে অধিকাংশ সময়ই ধর্ষণের ব্যাপারে মুখ খুলতে চায় না। প্রচলিত আইনের সমস্যাগুলো নিম্নোক্ত-

  • নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন ২০০০ (Prevention of Women and Child
    Repression Act), পারিবারিক নির্যাতন আইন ২০১০ এবং পেনাল কোড (৩০৯ ও ৫৫৪ ধারা), ১৯৭৬ সালের ডিএমপি অর্ডিন্যান্সের ২৬ ধারা- এ আইনগুলোতে নারীর হয়রানি ও যৌন নিপীড়নের জন্য ভিন্ন ভিন্ন সাজার কথা উল্লেখ থাকলেও কোনোটিতেই যৌন নিপীড়নের স্পষ্ট সংজ্ঞা নেই।
  • এ আইনগুলো জোরপূর্বক সঙ্গমকে ধর্ষণ হিসেবে অভিহিত করা হলেও, সম্মতির বিষয়টি বর্ণনা করতে ব্যর্থ।
  • ২০১৭ সালে নারী ও কিশোরী মেয়েদের অধিকারের প্রসঙ্গে বাংলাদেশ বড় রকমভাবে পশ্চাৎমুখী হয়। সে বছর ফেব্রুয়ারি মাসে ‘বিশেষ পরিস্থিতিতে’ মেয়েদেরকে ১৮ বছরের কম বয়সেও বিয়ে দেয়া যেতে পারে, এরকম একটি আইন পাস হয়।
  • বাংলাদেশের কোনো আইনেই ‘ম্যারিটাল রেপ’ তথা বৈবাহিক ধর্ষণের ব্যাপারটি উল্লেখ নেই।

 

শিক্ষার প্রসারের কারণে ঢাকার নারীরা এখন ধর্ষণ ও অন্যান্য নিপীড়ন প্রতিহত করা এবং সচেতনতা বৃদ্ধিতে কাজ করছে। এনজিও ও ব্যক্তিগত উদ্যোগের সাথে সাথে সরকারও নারী নির্যাতনে বেশকিছু উদ্যোগ হাতে নিয়েছে। যেমন-


  • নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন ২০০০ এর ২২ ধারা অনুযায়ী একটি বিল পাস হয়, যাতে বলা হয়, ধর্ষণ বা যেকোনো প্রকার নির্যাতনের শিকার কোনো নারী বা শিশুর জবানবন্দী কেবল কোনো নারী ম্যাজিস্ট্রেটই নেবেন, যাতে করে ন্যায্য তদন্ত এবং সুবিচার প্রতিষ্ঠা করা যায়।
  • উচ্চ আদালতের ১৮ আদেশে অভিযোগের সাথে সাথে ধর্ষণের মামলা গ্রহণ এবং ৪৮ ঘন্টার মধ্যে ধর্ষণের আলামত ডিএনএ টেস্টের জন্য জন্য ফরেনসিক ল্যাবে পাঠানোর বাধ্যবাধকতা দেয়া হয়।
  • অধিকার এবং ‘আইন ও সালিশ কেন্দ্রে’র মতো এনজিওগুলো শহরে ঘটে যাওয়া ধর্ষণের তথ্য সংগ্রহ করে এবং বিস্তারিত প্রতিবেদন প্রকাশ করে।
  • সম্প্রতি, যুক্তরাষ্ট্রের উইলিয়ামস কলেজ থেকে গণিত এবং বায়োইনফরম্যাট্রিক্সে স্নাতক পাস করা ইন্তেখাব হোসেন ‘আর স্কয়ার প্রোজেক্ট’ নামে একটি সৃজনশীল কর্মোদ্যোগ হাতে নিয়েছে। এটি হলো তথ্য বিজ্ঞান ব্যবহারের মাধ্যমে সচেতনতা বৃদ্ধির এক অভিনব উপায়, যা যৌন নিপীড়নকে কেন্দ্র করে এর পাইলট স্টাডি পরিচালনা করবে।
  • আমেরিকায় #মিটু আন্দোলনের প্রবর্তনের পর আমাদের শহরেও অনেক মানুষ কথা বলতে শুরু করেছেন, অনেকে তাদের অভিজ্ঞতাও বর্ণনা করেছেন।

কথায় আছে, “ন্যায়বিচার বিলম্বিত হওয়া মানে ন্যায়বিচার অস্বীকৃত হওয়া।” ডেইলি স্টার পত্রিকার এক প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০০১ থেকে ২০১৬ সালের মধ্যে ঢাকার মেট্রোপলিটন অঞ্চলে নারী ও শিশু নির্যাতন প্রতিরোধ বিষয়ক ৫টি ট্রাইব্যুনাল ৪৪৩৬টি মামলার মধ্যে ২০৫৭টি মামলা মাত্র নিষ্পত্তি করতে পেরেছে, যার মাঝে মাত্র ২২টি মামলায় অপরাধী দোষী সাব্যস্ত হয়েছে। এতে এটাই বোঝা যাচ্ছে যে আমাদের দেশের বিচার ব্যবস্থা ভুক্তভোগীদের যথাযথ ন্যায়বিচার দেয় না। ধর্ষক আর নিপীড়কের সবসময়ই আইনের কোনো না কোনো ফাঁকফোকর পেয়ে যায় এবং তার মাধ্যমে নিজেদের সাজা কমিয়ে আনে কিংবা কখনো কোনোরূপ সাজা ছাড়াই নিষ্কৃতি পায়। আর এটি সমাজে ধর্ষণ ও নিপীড়নের সংখ্যা বাড়িয়ে দিচ্ছে।

ধর্ষণ এবং যৌন নিপীড়নের প্রতি আমাদের সমাজের দৃষ্টিভঙ্গি পরিবর্তনের প্রয়োজন রয়েছে এবং এ ব্যাপারে আর বেশি বেশি কথা বলাও শুরু করতে হবে। সরকারের নতুন নতুন আইন প্রণয়ন করতে হবে এবং নারী ও শিশুর জন্য নিরাপদ সমাজ গঠন করতে হবে। তাছাড়া, প্রতিটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে নীতিশিক্ষা বাধ্যতামূলক করতে হবে যেন শিক্ষার্থীরা নৈতিক ও সামাজিক শিক্ষা লাভ করতে পারে। আইন প্রণয়নকারী সংস্থাগুলোর সামাজিক পর্যবেক্ষণ ও নজরদারি ব্যবস্থার উন্নয়ন করতে হবে, বিশেষ করে কিশোরী মেয়েদের নিরাপত্তার দিকটি নিশ্চিত করতে হবে।

পরিবারগুলোকে একটি স্বাস্থ্যকর পারিবারিক পরিবেশ গড়ে তুলতে হবে যেখানে শিশুরা শৈশব থেকেই সামাজিক এবং নৈতিক মূল্যবোধগুলো শিখতে পারবে। তাছাড়া যথাযথ কর্তৃপক্ষকে ছেলে-মেয়ের অসম অধিকারের বিষয়টি সামনে নিয়ে আসতে হবে এবং সম্মতির ব্যাপারটি মানুষকে উপলব্ধি করাতে হবে।

সবশেষ সরকারকে একটি কার্যকর বিচার ব্যবস্থা গঠনের জন্য কাজ করতে হবে। কার্যকর বিচার ব্যবস্থা ছাড়া ধর্ষণ, নিপীড়ন কিংবা এহেন অপরাধ করা অপরাধীর সংখ্যা কখনোই কমবে না। ধর্ষক ও যৌন নিপীড়কদের বিরুদ্ধে সরকারের কঠোর আইন প্রণয়ন ছাড়া কোনো ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে না। নারীর নিরাপত্তা বিধান করবে এবং ধর্ষককে ভীত রাখবে, এরকম আইন-শৃঙ্খলা ব্যবস্থা ছাড়া আমরা সামনে এগিয়ে যেতে পারবো না। যে শহরে অপরাধের সীমা ধরাছোঁয়ার বাইরে চলে যায় এবং কর্তৃপক্ষ সর্বসাধারণের নিরাপত্তা বিধান করতে ব্যর্থ হয়, সে শহর শত উন্নয়ন কাজ স্বত্ত্বেও কখনোই এগিয়ে যেতে পারবে না।

কৌতূহলোদ্দীপক প্রাসঙ্গিক বিষয়
পেডোফিলিয়া হলো এমন এক রোগ যা শিশুদের প্রতি প্রাপ্তবয়স্কদের যৌন আকাঙ্ক্ষা জাগ্রত করে। বর্তমানে ঢাকা শহরে এর প্রকোপ বৃদ্ধি পেয়েছে। যথাযথ যৌন শিক্ষার অভাবে পেডোফিলিয়া শহরে প্রচণ্ড বেড়েছে। ফলে, ৭ বছরের শিশু থেকে শুরু করে এমনকি নবজাতক শিশুর ক্ষেত্রেও পেডোফিলিয়ার ঘটনা ঘটতে দেখা যাচ্ছে। এটি একপ্রকার মানসিক সমস্যা যা থেকে ধর্ষণ এবং যৌন নিপীড়নের মতো ঘটনা ঘটতে পারে। এসব অপরাধ ঘটার পূর্বেই আমাদেরকে এই সমস্যা নিয়ে কথা বলতে হবে, সঠিকভাবে এর নিরাময় করতে হবে।
২০১৯ সালে হঠাৎ ধর্ষণের বিরুদ্ধে স্বঘোষিত এক যোদ্ধার আবির্ভাব ঘটে। সকলের মনোযোগের কেন্দ্রে চলে আসা এ যোদ্ধ নিজেকে হারকিউলিস দাবী করে এবং কয়েকজন কথিত ধর্ষককে হত্যা করে। সন্দেহভাজনদের খুন করে তাদের গায়ে “ধর্ষকেরা সাবধান” লেখা কাগজ ছেড়ে যেত এই হারকিউলিস। অজ্ঞাত এই যোদ্ধার আবির্ভাবে সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমে আলোচনা-সমালোচনার ঝড় বয়ে যায়। অনেকেই হারকিউলিসের পক্ষে ছিলেন আবার অনেকেই বলেছেন যে কোনো পরিস্থিতিতেই আইন নিজেদের হাতে তুলে নেয়া ঠিক না। তবে, সার্বিক পরিস্থিতি থাকে আমরা এটাই বুঝতে পারি যে, সরকার ধর্ষণের ভুক্তভোগীদের ন্যায়বিচার দিতে ব্যর্থ হচ্ছে বলেই এরূপ অজ্ঞাত বিচারকের আবির্ভাব ঘটছে।

শহুরে অপরাধ: ধর্ষণ ও নিপীড়ন

Dhaka, the capital city of Bangladesh is one of the most densely populated cities in the world. With the massive expansion of industrialization, the city has emerged as a megacity with a population of almost 9 million. It has become the hub of all economic, political and social activities. Due to rapid development of several industries, there has been provision for new employment opportunities rendering the people from different cities to migrate to the capital, in the hopes of learning a better livelihood.

Although, this shift has increased the overall population of the city, giving rise to several problems. Different socio-economic issues are plaguing the city and deteriorating the quality of people’s lives. Almost all societies have certain norms, beliefs, customs and traditions which are implicitly accepted by its members as conducive to their well-being and heathy allround development. Crimes in the city is one such problem which roots from over-population. There is a correlation between urbanization and city crimes. As more people move to the city seeking new employment opportunities, the concentrated mass spurs the crime rate. It becomes worse as the gap between the rich and poor increase.

There are different types of crimes taking place in the city, Drug Trafficking, Money Laundering, Extortion, Contract killing, Fraud, Human Trafficking, Robbery, Corruption, Black Marketeering, Political Violence, Terrorism and Abduction, rape, sexual assault, etc. But one of the most heinous crimes against humanity are rape and sexual assault, which causes the victim to go through unthinkable physical and psychological trauma, which is some cases have resulted in death.

In Dhaka, the number of the male population is 64.6 lakh whereas the number of the female population is 54.2 lakh. Even though, the gap between male and female isn’t very wide which in some countries work as a factor for generating Rape and assault, the number of rape and sexual assault against women and children in Dhaka hasn’t declined. Every month, we read up about different rape cases that take place in various parts of the country, among which most of them don’t get filed. The condition has gone so bad that, even 7-8-year-old children are getting raped. It happens to women, children and men of different ages. Moreover, it happens everywhere, in one’s own house, educational institutions, workplace, streets, public transports and through social media. (Cybercrime)

Usually young women especially teenage girls fall victim to most acts of sexual violence but lately there have been a number of case against the rape of small girls below ten, from which shows how any person who lacks security can fall victim to different acts of sexual violence. Moreover, one can get sexually assaulted anywhere in the city- young boys catcalling girls in the streets, women and children touched inappropriately in over-crowded buses, molestation of young girls in school and madrasas, harassment of women in workplaces, maids getting assaulted by house-owners, preteen girls getting abuses by private tutors and even in many cases by their relatives are few of the many scenarios of sexual misconduct that takes place in the city.

  • According to Ain o Salish Kendro (AIS), a total of 479 rape cases and 71 attempt to rape cases has been filed among which 28 cases were of death after rape and 7 cases where the victim commited suicide after Rape from January 2019 to May 2019.

Here is a table that shows the number is great detail regaridng the different froms of rape, age of the victim and other important areas.

  • Another survey conducted by Odhikar, given the data on rape and the forms of rape on victims of different age collected from the year 2015 to 2018.
  • Sexual Harassment in Dhaka rampant in the subtle forms of cat calling and eve-teasing. In most cases, the perpetrator finds its victims in the streets and teases her through different unpleasant ways. There have also been cases where the perpetrator managed to collect the victim’s number and had disturbed her by making incessant calls. It happens everywhere in the city as there are next to no laws that punish people for eve-teasing. Dhaka also sees many cases, where the assaulter stalks the victim and doesn’t stop until a male relative protest against it. The number of cases filed against these stalkers are also less in number.
  • Marital Rape is not widely talked about due to misogyny and Dhaka to foster a patriarchal society. But domestic violence and marital rape is quite common in many households in Dhaka.

There are several reasons behind the increased number of rapes and sexual assaults that take place in the city. Among them few have been discussed below:

  • Lack of quality education-
    One of the key causes behind sexual violence is the lack of quality education that imparts moral education to young boys and girls. Lack of proper upbringing, fails to teach people social norms and incorporate social values in them. Moreover, the lack of sex education disrupts their concept of consent. On the other hand, many people coming from a better background commits such crime which entails the lack of moral education which is necessary to stop these crimes from occurring.
  • Culture of impunity-
    The justice system in our country is inefficient and slow. The lack of strict penal codes against rape and assault, the red tape of the courts which drag one case for years, the lessening of punishment from life sentence to few years, all seem to be less intimidating to the criminal. As they think that they can easily get away with it, they have no fear in committing such crimes. As there are not enough rules and laws regarding assault and stalking in our city, the criminals knowingly tease girls, stalk them without thinking of the consequences.
  • Unequal treatment of men and women:
    The patriarchal society of our country has a tendency to look down upon women. Therefore, even when a woman gets assaulted, she is the one who gets blamed. In our society, families instead of teaching their boys how to behave, teach their girls how to dress so they don’t get harassed.
  • Lack of women empowerment:
    Even though more women are empowered in our city now than ever before, the existence of child marriages in the city indicate the backwardness among people. In order to empower the girls in our city, they will need to learn self-defense and have a better grasp on education.
  • Lack of security:
    The lack of security in our country makes it very difficult for girls to move around freely. Due to lack of security, a fear always persists within the girl who wants to travel alone or remotely wander around the streets after dark. Even travelling on public buses alone is not safe for the girls in the city .
  • Objectification of women in films and media:
    Most of the people in our country are exposed to television and media which portray women in a very negative way. They are treated as objects of beauty. Movies and songs in Bollywood and Dhallywood completely disregard the concept of consent and as most people who lack quality education are exposed to it, they have a different understanding of what consent is .

There aren’t sufficient laws prevalent in our country that penalizes people for the different types of harassments perpetrated against women and children. Moreover, the laws that already exists against Rape, have an unclear definition of sexual assault and needs to go through significant changes. Moreover, trial and punishment for rape and sexual abuse do not often happen in Bangladesh as the victims rarely speak out in fear of social dishonour. The problems with existing laws are-

  • The Nari O Shishu Nirjatan Daman Ain 2000 (Prevention of Women and Child Repression Act), Domestic Violence Act 2010 and the Penal Code (Section 354 and 509), Section 26 of the DMP Ordinance 1976 which covers teasing women- all these laws talks about different punishment but all of them lack the explicit definition of sexual harassment.
  • The laws entail that penetration is deemed sufficient for rape and fails to describe the validity of “consent”.
  • Bangladesh took a massive step backward on women’s and girls’ rights in 2017, passing legislation in February permitting girls under 18 years old to marry under “special circumstances,” eliminating the minimum age for marriages in this exception.
  • None of the laws address the issue of Marital Rape.

Due to the increase in education in our country, the part of Dhaka has seen the development of women who are working towards combating rape and assault and helping to raise awareness. The government along with some private sectors- NGOs and individuals have promoted initiatives to stop violence against women. A few of them are mentioned here.

  • A bill was passed per Section 22 of the Women and Children Repression Prevention Act 2000, which states that only female magistrates will record the statements of women and children who suffered rape or any sort of sexual harassment to ensure fair investigation, procedure and justice.
  • High court’s 18 directives declared that all police station must record a rape case, and samples are to be sent for DNA testing to a forensic laboratory within 48 hours of the alleged crime taking place.
  • NGOs like Odhikar and Ain O Salish Kendro works to collect data regarding all the sexual harassments that take place in the city and provides a detailed report of the cases.
  • Recently, Intekhab Hossain, a mathematics and bioinformatics graduate from Williams College, USA, has taken an initiative called the R-squared project, an innovative way of raising awareness through data science- which focused on sexual violence as its pilot study.
  • After the advent of the #metoo movement in America, people in our city are speaking out as well. Many people have shared their experiences.

“Justice delayed is justice denied.”- according to the Daily Star, in the Dhaka metro areas, five women and children repression prevention tribunals disposed of 2,057 cases out of 4,436 filed with different police stations from 2001 to 2016, where only 22 cases saw conviction. We can see that the condition of the judicial system in our country does not give proper justice to the victims. The rapists and the assaulters, always find some loophole in the law and get themselves lesser sentences or altogether avoids penalties. This increases the number of rapes and sexual violence in the city.

Our society needs to change its perspective towards issues like Rape and sexual violence and learn how to talk more about it. The government needs to implement new laws that ensure a safe and secure environment for women and children in the society. The government needs to incorporate the study of ethics in every educational institution in order to impart moral and social education. Law enforcement officials should work on improving the social monitoring system and ensure security to its people especially young girls in the city. Families need to generate a healthy domestic environment around their children, where children can attain both social and moral values from a young age. Authorities also need to address the unequal treatment of boys and girls in the society and promote a thorough understanding of consent. Lastly, the government needs to work on an effective legal justice system, without which the number of rapes and assaults and the perpetrators of such crime will never cease to exist. We cannot witness any positive changes unless the government implements strict laws against rapists and sexual assaulters. Without an effective law and order system which ensures the security of women and puts rapists to trail, we cannot move forward. A city where the crime reaches its peak level and the authorities fail to ensure safety of its residents, can never move forward no matter how massive the developments are.

An interesting take on the topic:

Pedophilia has taken a huge form in the city, it’s a disease that causes adults to be sexually attracted to children. Due to lack of awareness and proper sex education, pedophilia has infiltrated the city, instigating several cases of child rape- starting from 7-year-olds to even new borns. It is a mental illness which needs to be addressed and should be treated seriously before it leads to such heinous crimes like rape and assault.

2019 saw an interesting turn of events with the advent of a self-proclaimed crusader- for justice against rape, a person who identifies himself as “Hercules” murdered several alleged rapists. This vigilante upon killing these suspected rapists, have a note in their bodies stating the following- “Rapists, beware”. This emergence of this person who was not identified caused a raucous in social media as few people took his side and few opined against it saying no matter what one must not take the law in their own hands. However, the overall situation provides us with an insight that the failure of the government to provide proper justice to rape victims is the main reason behind the rise of such figures.