মাদক সমস্যা: পুনর্বাসন পরবর্তী অবস্থা

বাংলাদেশের রাজধানী শহর ঢাকা বিশ্বের সবচেয়ে ঘনবসতিপূর্ণ শহরগুলোর একটি। নগরায়ন ও শিল্পায়নের প্রভাবে শহরটি একটি মেগাসিটিতে পরিণত হয়েছে। এর জনসংখ্যা ৯০ লক্ষ ছাড়িয়েছে এবং প্রতিনিয়ত কর্মসংস্থানের জন্য ছুটে আসা মানুষের কারণে এই সংখ্যা কেবল বাড়ছেই। যদিও দেশটি সম্প্রতি উন্নয়নশীল দেশের তালিকায় নাম লিখিয়েছে, তথাপি অতিরিক্ত জনসংখ্যা এবং নানাবিধ সামাজিক সমস্যা দেশটির রাজধানী শহরের জন্য বড় বাধা হয়ে দেখা দিচ্ছে। একস্থানে পুঁজির ঘণীভবন এবং ধনী-গরীবের সম্পদের পাহাড়সম ব্যবধানের কারণে এখানে অপরাধপ্রবণতা প্রচণ্ড বৃদ্ধি পেয়েছে যার মাঝে সবচেয়ে বেড়েছে মাদক সমস্যা। তরুণ শিক্ষার্থী বিশেষ করে ১৫-৩০ বছরের নারী-পুরুষ উভয় লিঙ্গের মাঝেই মাদকের প্রাদুর্ভাব ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ছে।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মতে, মাদক হলো একপ্রকার সিন্থেটিক, সেমি-সিন্থেটিক অথবা প্রাকৃতিক কোনো রাসায়নিক পদার্থ যা রোগ নির্ণয়, চিকিৎসা এবং উপশমের কাজ করে মানুষ ও অন্যান্য প্রাণীর মনস্তাত্ত্বিক কার্যক্রমকে প্রভাবিত করার মাধ্যমে। নানা প্রকারের মাদকের মধ্যে ঢাকায় তিন প্রকারের মাদক বিদ্যমান।

মাদক ব্যবহারকারীরা যেকোনো পারিবারিক অবস্থানের হতে পারে, ধনী কিংবা দরিদ্র। এতে প্রমাণিত হয় যে মাদকের জন্য দরিদ্রতা দায়ী নয়, বরং প্রাসঙ্গিক অনেক কারণ রয়েছে। পারিবারিক সমস্যা ও অন্যান্য বিষয় থেকে উদ্ভূত চাপ, উদ্বেগ, বিষণ্ণতা, আশাহীনতা, মানসিক পীড়ন আর সবশেষ মাদকের প্রতি কৌতূহল এবং এর সহজলভ্যতা মাদক ব্যবহার বৃদ্ধির বড় কারণ। তরুণ শিক্ষার্থীরা বিশেষত কৌতূহল থেকে মাদক ব্যবহার করে এবং এর ফাঁদে স্থায়ীভাবে পা দেয়।

এক জরিপে দেখা গেছে, বর্তমানে বাংলাদেশে ৭৫ লক্ষ মানুষ মাদকাসক্ত। আবার, ‘ইন্টারন্যাশনাল সেন্টার ফর ডায়রিয়াল ডিজিজ রিসার্চ, বাংলাদেশ’ বলছে, রাজধানী ঢাকার মাদক ব্যবহারকারীদের মাঝে ৭৯.৪ শতাংশ পুরুষ এবং অবশিষ্ট ২০.৬ শতাংশ হলো নারী। এই মাদকসেবী জনগোষ্ঠী সম্পর্কিত কিছু তথ্য-

  • ৪৩ শতাংশ বেকার জনগোষ্ঠী মাদকে আকৃষ্ট হয়।
  • মাদকসেবীদের ৮০ ভাগই তরুণ, যার মাঝে ৫০ ভাগই আবার নানাবিধ অপরাধে লিপ্ত।
  • মাদকসেবীদের ৪৮ শতাংশ শিক্ষিত আর ৪০ শতাংশ নিরক্ষর।
  • মাদক ব্যবহারকারীদের ৫৭ ভাগই যৌন নিপীড়ক, যাদের মাঝে ৭ শতাংশ এইচআইভিতে আক্রান্ত।
  • মাদকসেবীদের ৮০ ভাগই ইয়াবা ব্যবহার করে যাদের ২৪ ভাগ হলো নারী।
  • ৮৫.৭ শতাংশ মাদকসেবী তাদের বন্ধুদের প্ররোচনায় মাদক গ্রহণ শুরু করে। এর মধ্যে ৬৫.৮ শতাংশ প্রাথমিকভাবে কোডিনযুক্ত কাশির সিরাপ দিয়ে মাদকে আকৃষ্ট হয়।
  • একজন মাদকসেবী বছরে ৫৬,৫৬০ থেকে ৯০,৮০০ টাকা পর্যন্ত খরচ করে। অতএব, ৭৫ লক্ষ মাদকসেবী বছরে ৫০ হাজার কোটি টাকার অধিক মাদকের পেছনে খরচ করে। অন্যদিকে গোয়েন্দা তথ্য বলছে, মাদকসেবীদের গড় বার্ষিক খরচ আড়াই লাখ টাকা বা তারও বেশি।

একজন মানুষ যখন নিয়মিত মাদক সেবন করতে শুরু করেন, তখন তার শরীরে বড় রকমের পরিবর্তন আসে। তখন প্রতিদিন সম পরিমাণ মাদক গ্রহণ করতে না পারলে তার শরীরে নানারূপ প্রতিক্রিয়া হয়। এ কারণে মাদকাসক্তদের জন্য মাদক ছেড়ে দেয়াটা অনেক কঠিন হয়। কেবল দীর্ঘমেয়াদে নিয়মতান্ত্রিক চিকিৎসাই পারে একজন মাদকসেবীকে মাদকের নেশা থেকে মুক্ত করে আনতে। পুনর্বাসনকেন্দ্রগুলো এক্ষেত্রে এমনভাবে চিকিৎসা করে যেন মাদকসেবী পুনরায় মাদক গ্রহণ শুরু না করে। পুনর্বাসন কেন্দ্র সাধারণত মাদক ব্যবহারকারীদের ভালো অভ্যাস গড়ে তুলতে সহায়তা করে, যেসব অনুভূতি মাদক গ্রহণে আকৃষ্ট করে, সেগুলো চিহ্নিত করতে শেখায়। আর এসবের মধ্য দিয়ে তারা মাদকসেবীকে মাদকের নেশামুক্ত হতে সাহায্য করে।

  • বর্তমানে দেশে মোট ২৮৬টি অনুমোদিত পুনর্বাসন কেন্দ্র রয়েছে। নতুন আরো ৬০টি পুনর্বাসন কেন্দ্র অনুমোদনের অপেক্ষায় আছে। এর মাঝে ঢাকায় সঠিক কতটি পুনর্বাসন কেন্দ্র আছে তা নির্দিষ্ট নয়। তবে মিরপুর, ধানমণ্ডি, গুলশান ও খিলগাঁওয়ে বেশকিছু পুনর্বাস কেন্দ্র আছে।
  • পুনর্বাসন কেন্দ্রের অবস্থান ও আরোগ্যলাভের সময়কালের উপর ভিত্তি করে প্রতি মাসে ২৫ হাজার টাকা ফি নেয়া হয়। এসব পুনর্বাসন কেন্দ্রে ১ মাস থেকে ৬ মাস মেয়াদী প্রোগ্রামের ব্যবস্থা থাকে।
  • বেশিরভাগ পুনর্বাসন কেন্দ্রই রোগীর চিকিৎসায় বৈজ্ঞানিক ও আধুনিক চিকিৎসা পদ্ধতি অনুসরণ করে না।

একজন মাদকসেবী কতটুকু আরোগ্য লাভ করবে, তা নির্ভর করে তার শারীরিক ও মানসিক পরিচর্যার উপর। পুনর্বাসন কেন্দ্র থেকে বেরিয়ে তাই কিছু মানুষ বাকী জীবন সংযত হয়েই কাটিয়ে দেন। কিন্তু কিছু মানুষ অতি দ্রুতই পুনরায় মাদকে আচ্ছন্ন হন। এর কারণ হলো তাদের উপর পুনর্বাসন কেন্দ্রগুলোর মানসিক প্রভাব। পুনর্বাসন কেন্দ্র থেকে বেশির ভাগ রোগীই ভয়ানক মানসিক আঘাত নিয়ে ফিরে আসে। এর কারণ ভুল চিকিৎসা এবং পুনর্বাসন কেন্দ্রের কর্তৃপক্ষের দুর্ব্যবহার। আরোগ্য লাভ করা প্রাক্তন মাদকাসক্তদের কাছ থেকে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে মাদক পুনর্বাসন কেন্দ্রগুলো সম্পর্কে নিম্নোক্ত ধারণাগুলো পাওয়া যায়।

  • জোরপূর্বক ভর্তি করা
    বেশিরভাগ মাদকাসক্ত ব্যক্তিই মাদক নিরাময় কেন্দ্রে ভর্তি হতে চান না। ফলে তাদেরকে জোর করে ভর্তি হতে বাধ্য করা হয়। অনেকসময় একজন মাদকসেবীকে নিরাময় কেন্দ্রে ভর্তির প্রক্রিয়াটি একজন মানুষকে অপহরণ করার মতো হয়ে যায়!
  • অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ
    স্যাঁতস্যাঁতে মেঝে আর ছোট আবদ্ধ ঘরের মাঝে রোগীদের থাকতে হয়। টয়লেটগুলোর অবস্থাও অত্যন্ত শোচনীয়। উপরন্তু, রোগীদেরকে অত্যন্ত নিম্নমানের খাবার সরবরাহ করা হয়। একবার এক পুনর্বাসন কেন্দ্রে পরিদর্শন করে দেখা যায় এর রান্নাঘর ভর্তি মেয়াদোত্তীর্ণ খাবারের প্যাকেট।
  • অসদাচরণ
    একবার এক বিখ্যাত পুনর্বাসন কেন্দ্রের সামনে একটি মৃতদেহ পাওয়া যায়। মৃতদেহে অসংখ্য চাবুকের আঘাতের চিহ্ন এবং পোড়া দাগ ছিল। এছাড়াও, চিকিৎসাধীন রোগীরাও স্বীকার করে যে কর্তৃপক্ষ তাদের উপর শারীরিক নির্যাতন চালায়, চিকিৎসার অংশ বলে তাদের দিয়ে সবরকমের ধোয়া-মোছার কাজ করায়। এছাড়াও, রোগীদেরকে কী ওষুধ খাওয়ানো হচ্ছে সে সম্পর্কে কোনোরূপ তথ্য না দিয়ে জোর করে তাদের ওষুধ খাওয়ানো হয়।
  • ভুল চিকিৎসা
    ঢাকার বেশির ভাগ পুনর্বাসন কেন্দ্রগুলোই সঠিক চিকিৎসাপদ্ধতি সম্পর্কে অবগত নয়। বিশেষ করে অ-অনুমোদিত পুনর্বাসন কেন্দ্রগুলোতো নানারূপ নির্যাতনমূলক চিকিৎসাপদ্ধতি অবলম্বন করে থাকে। ডেইলি স্টারের এক প্রতিবেদন অনুসারে, “২০১৬ সালের ৬ ফেব্রুয়ারি, পাবনার এক পুনর্বাসন কেন্দ্রের ডাক্তাররা চিকিৎসার অংশ হিসেবে ২৭ বছর বয়সী শরীফুল হককে বরফ স্নান করায় যার ফলে নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত হয়ে রোগীর মৃত্যু হয়। শরীফুলকে প্রতিদিন একটি বরফ ভর্তি বাক্সে ন্যূনতম ৫ ঘন্টা বসিয়ে রাখা হতো। তিনি বুয়েট থেকে কম্পিউটার সায়েন্সে স্নাতক পাস করেছিলেন। মৃত্যুর মাত্র ৩ মাস পূর্বেই তাকে নিরাময় কেন্দ্রে ভর্তি করা হয়েছিল।
  • রোগীদের জন্য পর্যাপ্ত স্বাস্থ্য সুবিধার অভাব
    এসব পুনর্বাসন কেন্দ্রে কোনো সার্বক্ষণিক ডাক্তার, নার্স কিংবা মনোবিদ নেই। এমনকি, রোগী কোথাও থেকে পড়ে গিয়ে ব্যথা পেলে কিংবা হঠাৎ প্রচণ্ড অসুস্থ হলে তাকে তাৎক্ষণিক হাসপাতালে ভর্তি করার ব্যবস্থাও নেই। এমনকি রোগীর পরিবারও যদি রোগীকে হাসপাতালে ভর্তি করাতে আসে, তাতেও তাদের বাধার সম্মুখীন হতে হয়।

উপরে উল্লিখিত এসব অকার্যকর চিকিৎসাপদ্ধতি রোগীর মানসিক স্বাস্থ্যের উপর প্রচণ্ড প্রভাব ফেলে। আর কর্তৃপক্ষের সার্বক্ষণিক ভীতি রোগীর উপর ভীষণ মানসিক চাপ ও আঘাত সৃষ্টি করে। এসব কারণে অনেকের অবস্থাই নিরাময় কেন্দ্র থেকে বেরিয়েই পুনরায় অবনতি ঘটে। পুনর্বাসন কেন্দ্র থেকে বের হবার পর এ মানুষগুলোর পরিবারের সদস্যদের কাছ থেকে কিংবা মনোবিদদের নিকট কাউন্সেলিংয়ের প্রয়োজন হয় মানসিক চাপ থেকে বেরিয়ে আসতে।

সাম্প্রতিককালে সরকার মাদক সমস্যা নিরসনে অনেক কর্মপরিকল্পনা হাতে নিয়েছে এবং মাদক বিরোধী অভিযানে মাদক বিক্রেতাদের গ্রেফতার করছে। তথাপি মাদকাসক্তদের পুনর্বাসনের জন্য সরকারের পক্ষ থেকে তেমন কোনো সাড়া নেই। শহরের মাদক নিরাময় কেন্দ্রগুলোতে রয়েছে পরিচর্যা ও পর্যবেক্ষণের অভাব। তাই, সরকারি এবং বেসরকারি, উভয় কর্তৃপক্ষেরই বিদ্যমান মাদক নিরাময় কেন্দ্রগুলো সম্পর্কে সচেতন হতে হবে এবং যেসব নিরাময় কেন্দ্র যথাযথ স্বাস্থ্যকর চিকিৎসার পরিবেশ নিশ্চিত করতে পারছে না, সেগুলো বন্ধ করার উদ্যোগ নিতে হবে। এছাড়াও, রোগীদের চিকিৎসার জন্য নতুন বৈজ্ঞানিক পদ্ধতি খুঁজতে হবে।

  • সাম্প্রতিককালে তেজগাঁওয়ে অবস্থিত সরকারি মাদক নিরাময় কেন্দ্রটি আরো ৭টি ক্লিনিকের সাথে সম্মিলিতি গবেষণায় মাদকসেবীদের চিকিৎসার নতুন পদ্ধতি আবিষ্কার করেছে। ‘অপিয়ড সাবস্টিটিউশন থেরাপি’ নামের এই পদ্ধতিতে রোগীর দেহে মেথাডন নামক এক প্রকার মাদক ইনজেকশনের মাধ্যমে প্রবেশ করানো হয়। রোগীর দেহে এর প্রভাব হেরোইনের মতই। তবে এটি একটি সিন্থেটিক যৌগ যা পপি ফুল থেকে তৈরি। মাদক গ্রহণের মাত্রা হঠাৎ কমে গেলে রোগীর দেহে যে প্রভাব পড়ে তার প্রেক্ষিতে এই পদ্ধতি প্রয়োগ করা হয়। বর্তমানে মাত্র ১০০০ রোগীর উপর এই চিকিৎসাপদ্ধতি প্রয়োগ করা হচ্ছে।
  • বাংলাদেশে নালোক্সোন নামক ঔষুধটি সরবরাহ করা প্রয়োজন যা উচ্চ স্তরের মাদকসেবীদের জীবন রক্ষা করতে পারে।

পর্যাপ্ত চিকিৎসা সুবিধা এবং কিছু মৌলিক স্বাস্থ্য সুবিধা নিশ্চিত করার জন্য পুনর্বাসনকেন্দ্রগুলোতে বিনিয়োগের পরিমাণ বাড়াতে হবে। এছাড়াও, কর্তৃপক্ষের ব্যবহৃত চিকিৎসাপদ্ধতি যাচাই করে দেখতে হবে এবং সকলপ্রকার নির্যাতনমূলক ও অ-অনুমোদিত চিকিৎসাপদ্ধতির উপর কঠোরভাবে নিষেধাজ্ঞা দিতে হবে।
চিকিৎসাধীন মাদকসেবীদের জন্য অবশ্যই স্বাস্থ্যকর ও ইতিবাচক পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে। তাছাড়া, মাদকের নেশা থেকে মুক্ত হয়ে সুস্থ জীবনে ফিরে আসবার জন্য তাদেরকে যথেষ্ট সমর্থন দিতে হবে। অবশ্য আমাদের দৃষ্টিভঙ্গিতেই প্রধান সমস্যা বদ্ধমূল হয়ে আছে। আমরা মাদকসেবীদের আরোগ্য লাভে চেষ্টারত রোগী হিসেবে দেখতে পছন্দ করি না বরং তাদেরকে সন্ত্রাসী হিসেবে দেখি।

বেশীরভাগ মাদকসেবীই তরুণ এবং তাদের সামনে রয়েছে অনেক সম্ভাবনা। পরিবার পরিজন আর বন্ধুবান্ধবের সহায়তা এবং সঠিক চিকিৎসা পেলে তারা আবারো সুস্থ হয়ে সমাজের অংশ হতে পারবে। জাতীয়ভাবে মাদক সমস্যা নিরসনে আমাদেরকে প্রথমেই নিশ্চিত করতে হবে ইতোমধ্যে মাদক দ্বারা নেশাচ্ছন্নদের আরোগ্যলাভ এবং পুনরায় সমাজের মূলধারার সাথে তাদের মিশে যাওয়া। তাহলেই কেবল একটি সুন্দর ভবিষ্যৎ গড়ে তোলা সম্ভব।

মাদক সমস্যা: পুনর্বাসন পরবর্তী অবস্থা

Dhaka, the capital city of Bangladesh is one of the most densely populated cities in the world. In the wake of rapid expansion of urbanization and industrialization in the city, Dhaka has emerged as a megacity with a population of almost 9 million and each day the number grows as more people shift to the city in the hopes of new employment opportunities.

Although the county has recently stepped into the threshold of a “developing nation”, overpopulation in the city has stubbed its growth through the influx of different social problems. Due to the concentrated mass in the capital and the wide gap between the rich and the poor, crimes are skyrocketing in the city among which Drug abuse has increased at an alarming rate. It is widely prevalent among young students, both male and female who are in between the ages of 15-30.

According to the World Health Organization (WHO), drug is a chemical substance of synthetic, semi-synthetic or natural origin intended for diagnostic, therapeutic or palliative use or for modifying physiological functions of man and animal. Among the different variations of drugs, only three types are available in Dhaka.

The drug abusers come from different backgrounds, some come from poor families and other from affluent families indicating that it is not only poverty that pushes a person towards drug abuse rather many other causes are here to play; Peer pressure, anxiety, depression and hopelessness, mental stress induced due to family pressure, easy access to drugs and curiosity. As people are curious about these things at a young age, most of the substance abusers are young students who fall into this trap while experimentation.

According to a recent survey, around 7.5 million people addicted to drugs in Bangladesh and International Centre for Diarrhoeal Disease Research, Bangladesh (ICDDR,B) shows that in the capital, 79.4 percent of the users are male and 20.6 percent are female. Among which,

  • 43% of the unemployed population of the country are addicted to drugs.
  • 80% are youth, of whom, 50% are involved in various criminal activities.
  • Of the total, 48% of drug addicts are educated and 40% are uneducated.
  • Around 57% are sex offenders, while 7% are infected by human immunodeficiency virus (HIV).
  • About 80% of the Drug Addicts were using Yaba, among which 24% are female.
  • About 85.7 percent get into consuming drugs under the influence of friends, while 65.8 percent get addicted to various codeine-laced cough syrups.
  • A drug user spends around Tk56,560 to Tk90,800 in a year. 7.5 million drug addicts spend about Tk50,000 crore annually. But according to intelligence reports, the average annual expenditure of a drug addict is Tk2.5 lakh.

When a person gets hooked to drugs, the body goes through massive levels of withdrawal if the same amount of drugs does not reach his system- one of the reasons why it is so difficult to get off of drugs. Only through systematic therapy and long-term treatment, can they recover from a drug problem. Rehabs help the patients to recover in such a way so that they don’t relapse. They help mitigate this problem by building good habits and teaching them to identify their emotions and the triggers that make them want to abuse drugs.

  • At present, there are 286 licensed rehabs all across the country, and 60 more seeking licenses. Among these, the right number of rehabs located in Dhaka are not known but there are a few many in Mirpur, Dhanmondi, Gulshan, Khilgaon in Dhaka.
  • Depending on the time period of recovery- one-month programme, six month programme and the area of the location, rehabs charge around 25,000 taka per month.
  • Most of the rehabs lack a scientific and medically sound approach to help the patients.

The condition of the abusers and how they recover and to what extent depends on the physical and psychological care that they receive during their treatments. Depending on that, some drug abusers go to remain sober for the rest of their lives while others almost immediately relapse. For most of these patients, the psychological impact caused by the rehabs are quite heavy. It has been seen that most of the patients who come out of rehabs, comes out with a deadly trauma from incorrect treatment and abusive behavior by the rehab authorities. On the basis of the account collected from a recovering addict, who received treatment from a particular rehab, the following features describe how a typical rehab is ran-

  • Admitting the patients forcefully:
    As most of the abusers have a tendency to deny treatment, the rehabs seek the permission of the family members to coerce the abusers into getting admitted into the rehabs. Their way of forcing the drug addicts seem almost equivalent to kidnapping a person.
  • Poor living conditions:
    The rooms are damp and extremely cramped where the patients have to share their beds with one another. The bathrooms are beyond filthy due to the low standards of cleanliness. The patients are provided with bad quality food. Upon inspection of a rehabilitation center, it was found that the kitchen had a huge stock of expired packaged food.
  • Abusive behavior:
    A dead body found in front of a notable rehab showed the signs of physical abuse as it was filled with welt and burn marks. Other recovering addicts have admitted that they were beaten up by the authorities and made ton carry out janitorial duties “as part of the treatment”. The patients are forcefully fed pills and the authorities feed them medicine without informing them about what it is.
  • Conducting incorrect ways of treatment:
    Most of the rehabs in Dhaka lack the understanding on how to treat the patients especially the unlicensed one who use different torturous methods on the patients. According to the Daily Star, “On February 6, 2016, 27-year-old Shariful Haque died of pneumonia after being given an ice bath treatment by the doctors of his drug rehabilitation centre in Pabna. Shariful was made to sit in an icebox filled with ice for up to five hours a day. The deceased was a computer science graduate from BUET. He was admitted to the rehab three months prior to his death.”
  • Lack of proper health facilities for the patients:
    There are no doctors, nurses or psychologists available on the clock for the patients admitted in these rehabs. In case, someone gets hurt or falls really ill there are no facilities for them to get hospitalized. Even if the family members want to hospitalize the patients, they face backlash from the rehab authorities.

All these ineffective ways of treatment have a heavy psychological impact on the patients. It creates great distress and trauma among the recovering drug abusers who from fear of the authorities refuse to get further help. Some even go on to face an unfortunate relapse. These people require some other form of recovery like counselling from psychiatrist and family members, upon coming out of the rehabs.

The government has taken a great many initiated lately in combating the drug problem by capturing the drug dealers but there hasn’t been any effort from the government to look into the conditions of the recovering addicts. There is a lack of supervision and monitoring of the rehabilitation centers of the city. Along with that both the private and the public authorities should look into the condition of the available rehabs and shut them down if they are not providing a healthy space for recovery for the patients. They should also look into new scientific methods to treat the drug abusers.

  • Recently, the government centre in Tejgaon along with seven other clinics are conducting a small project that has introduced a lesser known way of treating addicts, known as Opioid Substitution Therapy. This therapy injects a drug called methadone which has the same effects on the body as heroin but is a synthetic compound, naturally sourced from poppy flowers. It is given to addicts when their bodies go through withdrawal upon cutting off drug supply. Currently, only 1000 people who inject drugs are seeking this treatment.
  • Bangladesh also required to facilitate the distribution of a life-saving drug naloxone that can save the lives of people who are overdosing on drugs.

Investment on the rehabs should be made to improve the living conditions of the patients by ensuring the availability of the basic facilities and public utilities. The methods used for the recovery by the authorities require testing and there should be a strict ban on using unprescribed methods where the patients are subject to torture.

There should be a healthy and positive environment around the drug abusers seeking treatment from these centers. They should be given proper support so that they can have the strength to come out of drugs and meet a health recovery. The problem is ingrained in our perception of drug addicts and most of us look at them as criminals not as recovering patients. Most of the people who go through a drug problem are young and still have a lot of potential. If they can be provided with a good treatment and support from their family members, friends and peers they can enter the society again, in the hopes of improving their lives. In order to see the country tackle with the drug problem, we need to at first address the recovery of the one who has already fallen victim to it and ensure their participation in the society, only then can be build a better future for the people in our city.